প্রচ্ছদ » আশাশুনি » সাতক্ষীরার আশাশুনিতে চেয়ারম্যানসহ নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামীলীগের ছয় নেতাকর্মী আটক
সাতক্ষীরার আশাশুনিতে চেয়ারম্যানসহ নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামীলীগের ছয় নেতাকর্মী আটক
প্রতিনিধি
২২ জুন ২০২৬ , ৩:০৪:২৬
অনলাইন
সংস্করণ
গ্রামের কথা রিপোর্ট
সাতক্ষীরার আশাশুনিতে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের গোপন বৈঠক, সরকারবিরোধী নাশকতার পরিকল্পনা এবং রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ৬ জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টা ৩০ মিনিটে আশাশুনি উপজেলার কুল্যা ইউনিয়নের কচুয়া গ্রামের আমানউল্লাহ সরদারের নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ ও নিচতলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা গোপন বৈঠকে মিলিত হয়। সেখানে বর্তমান সরকারকে উৎখাতের ষড়যন্ত্র, নাশকতা ও অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আশাশুনি থানা পুলিশের একটি দল রাত আনুমানিক ১টা ১৫ মিনিটে ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা পালানোর চেষ্টা করলে ছাদে অবস্থানরত ৬ জনকে আটক করা হয়। তবে ভবনের নিচে অবস্থানরত আরও ১০ জন এজাহারভুক্ত আসামি এবং ৫০ থেকে ৬০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র ও বিস্ফোরকদ্রব্যসহ পালিয়ে যায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
আটককৃতরা হলেন কচুয়া গ্রামের ওমর ছাকি ফেরদৌস পলাশ, আছাফুর রহমান, ইকরামুল ঢালী, জিয়াউর রহমান, আজিজুল ইসলাম ও রাশিদুল ইসলাম।
এজাহারে আরও দাবি করা হয়েছে, পালিয়ে যাওয়ার সময় অভিযুক্তরা সরকারবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেয় এবং ভবিষ্যতে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার পরিকল্পনার কথা স্বীকার করে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, কথিত এই বৈঠকের অর্থায়ন ও পৃষ্ঠপোষকতা করছিলেন প্রধান অভিযুক্ত ওমর ছাকি ফেরদৌস পলাশ। তার নেতৃত্বে সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ড সংঘটনের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন স্থানে নাশকতা চালানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছিল বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, অভিযুক্তদের পরিকল্পনার মধ্যে চলন্ত যানবাহনে হামলা চালিয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি, সড়ক যোগাযোগে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর অপচেষ্টা ছিল।
এ ঘটনায় মোস্তাক আহম্মেদ বাদী হয়ে আশাশুনি থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলাটি আশাশুনি থানার মামলা নং-২২, তারিখ ২১ জুন ২০২৬ হিসেবে রুজু করা হয়েছে। মামলায় সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯-এর ৬, ৭, ৮, ৯, ১০, ১১, ১২ ও ১৩ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
এদিকে এলাকায় ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মামলার অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।