প্রতিনিধি ৫ জুলাই ২০২৬ , ১২:৪৪:৫৪ অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা:
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় বাস্তবায়িত চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৪)-এর প্রকল্প মেয়াদ শেষ হওয়ায় দীর্ঘদিন কর্মরত শত শত অস্থায়ী কর্মচারী চাকরি হারিয়ে চরম মানবিক সংকটে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, তারা ১৫ থেকে ২৫ বছর ধরে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ায় ২০২৬ সালের ৩০ জুন তাদের চাকরির অবসান ঘটে। এরপর থেকে তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
সাতক্ষীরা পিটিআইয়ে দীর্ঘদিন গাড়ি চালক হিসেবে কর্মরত মোঃ রেজাউল করিম জানান, চাকরি হারানোর পর পরিবারের ভরণপোষণ, সন্তানের লেখাপড়া ও চিকিৎসাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। একই ধরনের সংকটে জেলার আরও অনেক অস্থায়ী কর্মচারী রয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, চাকরি হারানোর কারণে অনেকেই ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। নিয়মিত আয়ের উৎস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবারে আর্থিক সংকটের পাশাপাশি মানসিক চাপও বেড়েছে। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন সরকারি প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে সরকার মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে তাদের পুনর্বহাল বা স্থায়ীকরণের উদ্যোগ গ্রহণ করুক।
এ বিষয়ে সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, দীর্ঘদিন কর্মরত ব্যক্তিদের হঠাৎ চাকরি হারানো শুধু অর্থনৈতিক নয়, সামাজিক ও মানসিক সমস্যারও সৃষ্টি করে। এতে পারিবারিক অস্থিরতা, হতাশা ও বিষণ্নতার ঝুঁকি বৃদ্ধি পেতে পারে।
অস্থায়ী কর্মচারীরা সরকারের কাছে তাদের চাকরির বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও সেবার মূল্যায়ন করে তাদের পুনর্বহাল বা স্থায়ী নিয়োগের ব্যবস্থা করা হলে তারা পরিবার নিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপনের সুযোগ পাবেন। সাতক্ষীরা জেলা দৈনিক মজুরি ভিত্তিক কর্মচারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুল করিম জানান, সরকার সবসময় দক্ষ জনবলের অভাবের কথা বলে কিন্তু এতগুলো দক্ষ জনবলের নিয়োগ বাতিল করে একদিকে যেমন এতগুলো দক্ষ জনবল কর্মহীন হয়ে পড়লো অপরদিকে সরকার তার কথা রাখতে পারলো না। তিনি আরও বলেন, এখন আমাদের একটাই দাবি এই দক্ষ জনবলকে স্ব স্ব কর্মক্ষেত্রে আত্মীয়করণ/ স্থায়ীকরণ করা।

















