সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: দীর্ঘদিন অব্যবস্থাপনা ও জনবল সংকটে থাকা আলিয়া কামিল মাদ্রাসায় সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হলেও সম্প্রতি একটি সংঘবদ্ধ চক্র মব সৃষ্টি করে ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, আওয়ামী সরকারের আমলে দীর্ঘদিন ধরে এ প্রতিষ্ঠানে নিয়মিতভাবে ক্লাস অনুষ্ঠিত হয়নি। ১৬ বছর ধরে ৪র্থ শ্রেণির কোনো কর্মচারী ছিলেন না, এমনকি অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ পদও শূন্য ছিল। অবশেষে ১৪ মে ২০২৪ তারিখে গভর্নিং বডি ড. মুহাঃ আক্তারুজ্জামানকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেয়। তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর মাদ্রাসায় পড়াশোনার অনুকূল পরিবেশ ফিরিয়ে আনেন। তারই ফলশ্রুতিতে ২০২৫ সালের দাখিল পরীক্ষায় ২৫ জন এ প্লাসসহ সব শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়। তবে জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের কারণে নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত থাকে। পরবর্তীতে মাদ্রাসায় এডহক কমিটি গঠিত হয়। ১৭ জুলাই ২০২৫ তারিখে ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর কর্তৃক মনোনীত মুহাদ্দিস মুহাম্মদ আব্দুল খালেককে সভাপতি করে নতুন গভর্নিং বডি ঘোষণা করা হয়। ৩০ জুলাই ২০২৫ তারিখে অনুষ্ঠিত সভায় শিক্ষক ও কর্মচারী মিলিয়ে ১৩ জনকে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ বিষয়ে ৩ আগস্ট ২০২৫ তারিখে দৈনিক সংগ্রাম ও দৈনিক দৃষ্টিপাত পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। কিন্তু এরই মধ্যে অভিযোগ উঠেছে, আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে মাদ্রাসায় অনিয়মে জড়িত কিছু ব্যক্তি ১৩ আগস্ট ২০২৫ তারিখে ক্যাম্পাসে এসে মব সৃষ্টি করে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে অপদস্ত করে। এই ঘটনায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মহলে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, বিগত ১৫ বছরে মাদ্রাসার কোন অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি। বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দায়িত্বভার গ্রহণের পর মাদ্রাসার সামগ্রিক উন্নয়ন হচ্ছে। কিন্তু একটি কুচক্রী মহল এই উন্নয়ন কার্যক্রমকে বাঁধাগ্রস্ত করতে মব সৃষ্টি করে। আওয়ামী দোসরসহ মব সৃষ্টিকারীদের আমরা দ্রুত আইনের আওতার আনার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।